The tradition & historical record
5 min read · 2 sourcesদাঁশায় উৎসব বা দাসাই উটসব হলো খেরোয়াল সাঁওতাল দের একটি বাৎসরিক উৎসব। 1
কারণ
এই উৎসবের দুটি ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। অনেকের মতে, এটি প্রকৃতি দেবী দুর্গার উপাসনাকে কেন্দ্র করে প্রকৃতি উপাসক সাঁওতাল ও অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত একটি উৎসব। আবার অনেকের মতে, দাঁশায় কথাটির মধ্যে দিয়ে সাঁওতালদের কাছে এক ইতিহাসের ছোঁয়া আসে। যেটা অ-আদিবাসীরা পান না। দাঁশায় কিন্তু উৎসব নয়। দাঁশায় হল খোঁজ; দুঃখের খোঁজ। ইতিহাসের; পূরানো ঐতিহ্যের অনুসন্ধান। বিশ্বাসঘাতকতার বদলা নেবার বাসনায় আজও এই খোঁজ চলে। তাই একে সাঁওতালি ভাষায় “দাঁশায় দাঁড়ান” বলা হয়। সাঁওতালি “দাঁড়ান” কথাটির অর্থ হল ভ্রমণ, “দাঁড়ান” কথাটি সাঁওতালি তে এখানে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। “দাঁশায়” সাঁওতালিতে একটি মাসের নাম (ইংরেজি সেপ্টেম্বর- অক্টোবর মাস)। দাঁশায় মাসের পূর্ণচন্দ্র ওঠার পাঁচদিনের পর থেকে এই “দাঁশায় দাঁড়ান ” শুরু হয়। এই মাস টি বাংলায় শরৎ কালের সমসাময়িক। দূর্গা পূজার সাথে দাঁশায়ের বহু পুরানো, গভীর শত্রুতা – ভালোবাসা- বিশ্বাসঘাতকতার সম্পর্ক। তাদের মতে, এই দূর্গাপূজা আসলে এক অজানা ইতিহাস বহন করে। এই ইতিহাস হল বহিরাগত শত্রুর সাথে এ দেশের অধিবাসীদের লড়াই এর ইতিহাস। অনেকের মতে, দাঁশায় দাঁড়ান নিয়ে যে সমস্ত সাঁওতাল আদিবাসী কথা, গল্প কথা, উপকথা, মিথ,আছে সে গুলো নিতান্তই মিথ বা গল্পগাথা নয়, এগুলো সাঁওতালদের দেশের ইতিহাস, দাঁশায় সম্পর্কিত গান গুলো তে উক্ত ইতিহাসের আভাস পাওয়া যায় যে গুলো বহিরাগত দৃষ্টিভঙ্গির মিথ কল্পনায় ঢাকা হয়ে আছে এবং সম্পূর্ণ বিপরীতে দাঁড়িয়ে। এই দাঁশায় দাঁড়ান এক ধরনের নাচের মধ্য দিয়ে সংগঠিত হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গে মূলত সাঁওতালদের মধ্যেই এই সুপ্রাচীন ইতিহাস লালিত পালিত হয়। 1
উৎসবের প্রকৃতি
ডাঁশায় উৎসবের প্রকৃতি নিয়েও দুটি ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। 1
প্রথম ব্যাখ্যা
দাঁশায় উৎসব সম্পুর্ণরূপে "কৃষিভিত্তিক ও প্রকৃতি বন্দনার উৎসব"। অনেকে এটাকে যুদ্ধের কাহিনী বা হুদুড় দুর্গা কিস্কুর লড়াইয়ের কাহিনী বলে ভুল প্রচার করে। দাঁশায় একটি যুদ্ধের উৎসব বলে যে প্রচার চলে তার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তা সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।সাঁওতালরা প্রকৃতি উপাসক। তাঁদের প্রত্যেকটি উৎসবেই নানা ভাবে প্রকৃতি বিভিন্ন শক্তির আরাধনা করা হয়। দীর্ঘ খরা বা অনাবৃষ্টির পর জলের আশায় প্রকৃতি দেবীকে পূজা ও সন্তুষ্ট করে আহ্বান করাই দাঁশায় উৎসবের মুল উদ্দেশ্য। আর "হুদুড়" বা "হুডুর" শব্দটা মেঘের সাথে তুলনা করা হয়। হুডুর বিজলী, হুদুড় হুদুড় হয় ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়। দাঁশায় উৎসবের প্রথম গানটির মধ্যে শুনলেই তার উল্লেখ রয়েছে "হায়রে হায়রে অকয় যাপে জুঁডিয়াদা দেশ দ অকয় যাপে আতার আদা দিশম দ দেশ দরে ল-লাটিচ এন দ দিশম দরে হাসায় ডিগিরেন ঠাকুর গেচয় জুঁডিয়াদা দেশ দ ঠাকুর গেচয় আতার আদা দিশম দ হায়রে হায়রে দেশ দরে ল-লাটিচ এন দ দিশম দরে হাসায় ডিগিরেন দেশে ঠাকুর জৗডি মেসে দা: দ দেশে ঠাকুর জারগে মেসে জাপুদ দ দেশ দরে ল-লাটিচ এন দ দিশম দরে হাসায় ডিগিরেন"। “প্রচন্ড অনাবৃষ্টির ফলে দেশ দিশম জ্বলে পুড়ে যায়, হে ঠাকুর বৃষ্টি দাও” – এটাই দাঁশায় উৎসবের মুল কথা, কৃষিজীবী মানুষের করুণ আর্তি বোঝাতে “হায় হায়” শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতের আদিকালে যত ধর্মীয় উৎসব, তার প্রত্যেকটাই কৃষির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত। সাঁওতালদের দাঁশায় উৎসব অন্যতম প্রাচীন কৃষি সম্পর্কিত একটি উৎসব। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কারাম, দাঁশায়, সহরায়, বাহা ইত্যাদি সবকটাই কৃষি ভিত্তিক উৎসব। 1
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা
সাঁওতালি দাঁশায় নাচের ইতিহাসে এ কথা বলা হয় যে- প্রাচীন কালে যখন ভারতবর্ষে আর্য বা দিকু দের আগমন হয় নি তখন এই দেশে হুদূড় দূর্গা নামে এক মহান সাঁওতাল আদিবাসী যোদ্ধা ছিলেন। যিনি রাজ্যের তথা দেশের প্রধান ছিলেন। “হুদূড়” শব্দ টি সাঁওতালি শব্দ; উদাহরণ- ‘হুদূড় হুদূড় হয় এদা (জোরে বাতাস) ‘হুদূড় হুদূড় এ উদুর এদা(জোরে নাক ডাকা) এবং “দূর্গা ” শব্দ টিও পুংলিঙ্গ । এই “দূর্গা” শব্দ টি সাঁওতাল শব্দ ভাণ্ডারে ও নামকরণ এ পাওয়া যায় । তাই হুদূড় দূর্গা যে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ছিলেন এটা বলাই যায়। সাঁওতালি কথায় এর প্রমাণ এটাই যে “রাজ” বা “শাসক ” এর ধারণা কিস্কু গোষ্ঠীরা যে রাজকার্য পরিচালনা করত তার গল্প গান থেকে আমরা পাই সেই হেতু সাঁওতালদের ইতিহাসে “রাজা” বা ‘যোদ্ধা’ “বীর” “শাসক” “গুরু” ধারণা গুলি বইরে থেকে আগত বা আহুত নয়। যাই হোক; এই হুদূড়দূর্গা কিন্তু খুব সৎ স্বাধীনচেতা স্বদেশপ্রেমী প্রজাবৎসল শাসক ছিলেন। তাঁর শাসনেই এই দেশ এবং তার দেশবাসী সুখে শান্তিতে শস্যশ্যামলায় পরিপূর্ণ থাকতো। এর পরেই আসে বহিরাগত দের আগমন ।বহিরাগত বলতে এখানে আর্য দের কথা বলা হয়েছে। আর্য দের সাথে এই দেশের মানুষ(যাদের আর্য রা অনার্য বলে) দের সরাসরি সংঘর্ষ হয় ।এই সংঘর্ষ যুদ্ধ বিগ্রহ অনেক দিন ধরে চলেছিল কিন্তু আর্য রা পেরে ওঠেনি । বার বার প্রতিহত হয়ে তারা হত্যদম হয়ে পড়ে । তাঁরা অনেক দিন ধরেই খন্ড যুদ্ধ চালিয়ে যায়। যে হেতু তখন কার দিনে কেল্লা বা fort; (সাঁওতালিতে “গাড়”) নির্ভর যুদ্ধ ব্যবস্থা ছিল তাই বহিরাগত শত্রুরা প্রবেশ করতে পারে নি। এই ” গাড়” গুলির নাম এখনো সাঁওতাল ইতিহাসে আছে। সাঁওতাল ১২ টি উপাধি এর জন্য বারো টি গাড় এর নাম আমরা পাই। 1
দাঁসায় গান
ঐতিহাসিক ধীরেন্দ্রনাথ বাস্কে “দাঁশায় পরব”(?) সম্পর্কে মনে করেন যে; এই দাঁশায় দাঁড়ান এর রেওয়াজ আর্যদের সঙ্গে লড়াই এর আগে থেকেই ছিল। কিন্তু দাঁশায় এর গান গুলো তে “হায়রে হায়” শব্দের ব্যবহার সাঁওতালি পুরাণের ঘটনাবলীর সাথে; গল্প কাহিনীর সাথে মিল খায় না। আর্য দের সঙ্গে লড়াই এর আগের থেকে এই দাঁশায় গানের কলির মধ্যে “হায়রে হায়” কথা গুলো না থাকারেই কথা। তাই ধীরেন্দ্রনাথ বাস্কের এই দাবিও সঠিক প্রামাণ্য নয়। যদিও পরবর্তী কালে সময়ে সময়ে অনেক গানরে সংযুক্তি ঘটেছে । স্বাভাবিক ভাবেই এর পাশাপাশি আরও বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী পাওয়া যায় তা হল দিবী_দূর্গা_আয়ন_কাজল এর কাহিনী ।”মঈশা; ময়সা” (যে থেকে “মহিষাসুর” কথাটি এসেছে বলে মনে করা হয়) এই নাম গুলি সাঁওতালি মুন্ডারী সহ অন্যান্য আদিবাসী জাতির মধ্যেও পাওয়া যায়। এই কাহিনী গুলোও আর্য দের সঙ্গে লড়াই এর প্রমাণ দেয় । 1
The text above is adapted from the Wikipedia article “দাঁশায় উৎসব”, available under the Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 licence. 1
Dasai festival is recorded in open cultural data. The structured record cited below does not describe the practice, and this entry has not yet been reviewed by a person familiar with the tradition. 2
The source record links this tradition to 1 external register, which can be verified through the citation. 2